ফড়িং

“কখনও ফড়িং ভূতের নাম শুনেছিস?” জিজ্ঞেস করেন ছোটকাকু, আলো আঁধারিতে মুখটুকু স্পষ্ট করে দেখা যায় না। দরমার বেড়া দিয়ে পাঁচিল করা হয়েছে, কোণের দিকে ড্রাম আর ইঁটের টুকরো দিয়ে ফাঁকটুুকু ঢাকা। মোমবাতিটা জ্বলেছে অনেকক্ষণ ধরে, গলে যাওয়া লাল মোম ঠাণ্ডা দাওয়ার ওপর পড়ে জমাট বেঁধে যাচ্চে খালি খালি। শিরশিরে একটা অনুভূতি বাতাসে, এমন জমাটি আবহাওয়ায় … পড়তে থাকুন ফড়িং

Advertisements

অরণ্য আখ্যান : পর্ব ৩

...এ মহানগর ঘুমায় না। হলদে হ্যালোজেন সহস্রচক্ষু মেলে পাহারা দেয় এখানে। মফস্বলের অন্ধকার গলির রাতচৌকির বাঁশি এখানে গুমরে গুমরে ঘোরে কোনো কানাগলির ভেতরে। রাত বাড়লে শহরের ভেতর জেগে ওঠে আরও একটা শহর। তার গায়ে লেগে থাকে আলকোহলের ঝাঁঝালো গন্ধ। তার মধ্যে তখন পর পর নিভে যাওয়া ফ্ল্যাটবাড়ির আলোর ঝলসানি। তখন তার ফুটপাথে চাদর বিছিয়ে শুয়ে … পড়তে থাকুন অরণ্য আখ্যান : পর্ব ৩

অরণ্য আখ্যান : পর্ব ২

বিকেলেও মাঝে মাঝে ভোর নামে। শালপাতা দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে গড়িয়ে পড়ে আলোটা। ভিজে গেছে যেন। অথচ, তাতে হলুদ-লালের রেশমাত্র নেই। শুধু নীল। গাঢ় ময়ূরকণ্ঠী নীল রঙা আলো। ঝিরিঝিরি হাওয়ার সাথে খসে খসে পড়তে থাকে পাতাগুলো। ইতিউতি টুপটাপ শালফুল নেমে এসে সঙ্গ দেয়। এক একটা পাতার খসে যাওয়ার সাথে সাথে একটা একটা করে নতুন আলো জন্ম … পড়তে থাকুন অরণ্য আখ্যান : পর্ব ২

মাশুল

মেঠো রাস্তার পাশের কদমগাছটা থেকে মৌটুসী পাখিটা ডেকে উঠতে জোরে পা চালাতে শুরু করলো হারু। হারু, অর্থাৎ হারাধন সাঁপুই। বাপ – মায়ের একমাত্র ছেলে। শীতের দিন, ভোরবেলায় কুয়াশা একটু বেশিই। দুহাত দুরের জিনিস দেখা যাচ্ছে না ভালো করে। হারু টর্চ নিয়ে বেরিয়েছে একটা। রাস্তাঘাটে উল্টোদিক থেকে আসা গাড়িঘোড়া যেন টের পায় তার অস্তিত্ব, তাই এই … পড়তে থাকুন মাশুল

বহুযুগের ওপার হতে…

স্বামীর ডাকে চটকা ভাঙে মালতীদেবীর। খেয়েদেয়েই বেরিয়ে পড়েছিলেন ছেলে-বউমার বাড়ির উদ্দেশ্যে। দুপুরের ভাতঘুমটা মিস হয়ে গেছে, তাই বাসেই চোখ বুজে আমেজটুকু নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। যা হতচ্ছাড়া রাস্তা, শান্তিতে চোখ বোজার উপায় আছে নাকি! কোথায় নিশ্চিন্দি হয়ে দিব্যি চোখ বুজবেন আর খুলেই দেখবেন গন্তব্যে চলে এসছেন, তা না, বাস চলেছে লটর ঘটর করতে করতে। একবার এদিকে … পড়তে থাকুন বহুযুগের ওপার হতে…

বসন্তের ডায়েরি

আচ্ছা, বসন্তের কেমন একটা আলাদা মেজাজ থাকে না? মন ভালো করা ফুরফুরে দখিনা বাতাস, তাতে বকুল-জুঁই-টগরের মিষ্টি গন্ধ মেশানো। দুপুরে সজনেফুলের বড়া, থোরের তরকারি, কলাইয়ের ডাল দিয়ে গরম ভাত। ঘটরঘটর ফ্যানের আওয়াজের সাথে গায়ে পাতলা চাদর জড়িয়ে নরম বালিশ-পাশবালিশের সাথে সুখনিদ্রায় ডুব। বাইরে দুপুর রোদ চুপচাপ। কাঠবিড়ালিগুলো পাতায় ডালে খরমর খরমর শব্দ তুলে লাফিয়ে বেড়াতে … পড়তে থাকুন বসন্তের ডায়েরি

ছিন্নমূলের ডানা

ইঁটকাঠের ইমারতের ভিড়ে দম আটকে আসে একরত্তি মেয়েটার। কতই বা বয়স হবে আর, বারো-তেরো? পড়াশোনা করার জন্যে তাকে আসতে হয়েছে এখানে। সে শুধু জানে, পড়াশোনা করতে হবে তাকে। অনেক পড়াশোনা।বড় হয়ে উঠতে হবে। কিছু একটা করবে সে, যাতে তার মায়ের দুঃখ ঘুচে যায়। তাদের বাড়িটা যেখানে ছিল, সেখানে এরকম দম আটকানো ধোঁয়া থাকত না। জানলাটা … পড়তে থাকুন ছিন্নমূলের ডানা

এভাবেও ভালবাসা যায়

চৈত্রমাসের শেষ দিকের দুপুরে শ্রাবণী সেনের গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার মধ্যে একটা বেশ আলাদা আমেজ আছে। অন্তত তেমনটাই মনে হয় নীপার। নিঃঝুম দুপুরে দূর থেকে ভেসে আসা কুহু কুহু ডাকে, ঘড়ঘড় করে ঘুরতে থাকা ফ্যানের ব্লেডের আওয়াজের সাথে 'এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে'- আহা! পারফেক্ট মন ভালো করা আবেশ এনে দেয় একটা। কিন্তু নীপার মন ভালো … পড়তে থাকুন এভাবেও ভালবাসা যায়

বৃষ্টিফুল

মেঘের ছায়া ঘন হয়ে এসেছে ঘরটার ভেতর। অধৈর্য হয়ে পেনটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ল তিস্তা। কাঁহাতক আর অপেক্ষা করা যায়! রাস্তায় একবার উঁকি মেরে দেখল, অরণ্যটার কোন পাত্তা নেই। এদিকে আকাশের যা অবস্থা, যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি নামল বলে। অরণ্য তিস্তার ছোট্টবেলার বন্ধু। একসাথে ওদের বড় হয়ে ওঠা। স্কুল থেকে কলেজ অবধি। … পড়তে থাকুন বৃষ্টিফুল

অরিদমন

অরিজিত| না নামটা বললে প্রথমে এখন যার কথা মাথায় আসে, আমাদের গল্পের নায়ক সেই গানের রাজা অরিজিত সিংহ নয়| এই অরিজিত নিতান্তই সাধারণ এক গ্রামের ছেলে| গ্রাম বলছি বটে, কিন্তু তাকে মফস্বল বলাই বোধহয় ভাল হবে| তার রাস্তায় বোধকরি পাত পেড়ে খাওয়া যায়…এমন তকতকে| বলা যেতে পারে, তার রাস্তার "দুই পাশে ধান             প্রকৃতির দান … পড়তে থাকুন অরিদমন