অন্তর্মুখী

আঁচল 'পরে ধরা ধরে শ্যাম, রক্ত জমে বুকের ভিতর 'পরে। একদিকেতে উদার আকাশ খোলা, অন্যদিকে তরুণ সৈন্য মরে।। রংবেরঙের সাতনহরী হারে বর্ণচ্ছটায় ধরে না আর প্রাণ, ঠিক তখনই কোন্ সীমান্ত ধারে বাজে বহুল মৃত্যু-বিজয়গান।। বিলাপ শেষে ফের অন্তর্মুখী, মানুষ আজকে বড়ই স্বার্থপর। ধরম-খাঁড়ার নিঠুর বলি শহীদ- তোমায় কোলে টানবেন ঈশ্বর।।

Advertisements

বহুযুগের ওপার হতে…

স্বামীর ডাকে চটকা ভাঙে মালতীদেবীর। খেয়েদেয়েই বেরিয়ে পড়েছিলেন ছেলে-বউমার বাড়ির উদ্দেশ্যে। দুপুরের ভাতঘুমটা মিস হয়ে গেছে, তাই বাসেই চোখ বুজে আমেজটুকু নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। যা হতচ্ছাড়া রাস্তা, শান্তিতে চোখ বোজার উপায় আছে নাকি! কোথায় নিশ্চিন্দি হয়ে দিব্যি চোখ বুজবেন আর খুলেই দেখবেন গন্তব্যে চলে এসছেন, তা না, বাস চলেছে লটর ঘটর করতে করতে। একবার এদিকে … পড়তে থাকুন বহুযুগের ওপার হতে…

মেঘডম্বরম্

বর্ষাকে আমার ভারি ভাল লাগে। না তা বলতে আবার ভেবে বসবেন না যেন নির্ঘাত ছেলেটা বর্ষা নামক জনৈক ললনার ব্যর্থ প্রেমিক, লেঙ্গি খেয়ে ফিলিংস উজাড় করতে বসছে। ওই "আমার ছোনা" "আমার বাবু" ইত্যাদি গোছের নেকুপুষুমুনু সংলাপ আমার দু'চক্ষের বিষ। বাপু হে, ভগমান মানুষ করে জন্ম দিয়েছেন তা একটু মানুষের মতন কথা বল না, অতো ঢং … পড়তে থাকুন মেঘডম্বরম্

আয় ফিরে আয়

হলুদ হওয়া পাতার স্মৃতিতে আটকে রাখি ভোর, বল কবে তুই আসবি আবার লাগবে নেশার ঘোর! রিক্ত ঘড়ির ঝরানো কাঁটায় সময় থমকে থাকে, শিকল বাঁধা গান ধর তুই জমুক খাতার ফাঁকে। প্রেমস্তম্ভের মিনার তবুও দাঁড়িয়ে থাকে সোজা। আমার জন্যে তুই হবি কবি, আমি হব তোর বোঝা। মন্দ বাতাস, আলগা আলাপ, তার জানি নেই শেষ, অন্ধকার তাও … পড়তে থাকুন আয় ফিরে আয়

মনখারাপের চিঠি

অনেক দিনের জমিয়ে রাখা কথা আর কতকাল রাখব ধরে বল? তোর জন্যে সইব হাজার ব্যথা ইচ্ছেনদীর ঢেউ জাগে টলমল। জানলার কাঁচে আবছা আলোর ফোঁটা, ধুলোয় মেশে মনখারাপের দেশ। একলা দিনে মেঘের সঙ্গে ছোটা, চল না হই দু'জন নিরুদ্দেশ? সন্ধ্যেবেলার আড্ডা, তেলেভাজা, ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আজও নামে, আলতো করে হাসলে 'পরে তুই বুঝতে পারি আজও সময় থামে। … পড়তে থাকুন মনখারাপের চিঠি

আরও একবার, তথাগত

সকাল হলে 'পরে, আমি হেঁটে যেতাম মেঠো রাস্তার আল ধরে তোমার উদ্দেশ্যে, তথাগত। দিগ্বলয়রেখার মেঘের ঝাঁক হাতছানি দিয়ে ডাকছিল আমায়। শ্যাওলা ধরা দিঘির ঘাটে বসতাম হয়ত কিছুক্ষণ। সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেবদারু গাছের পাতায় তোমার বাণী শুনতাম প্রাণ ভরে, তথাগত। শালিক-চড়ুই উড়ত আকাশে,নরম রোদ তাদের পালকে পালকে মিশিয়ে দিত তোমার মন্ত্র, প্রচারিত হত দশ দিকে। … পড়তে থাকুন আরও একবার, তথাগত

বসন্তের ডায়েরি

আচ্ছা, বসন্তের কেমন একটা আলাদা মেজাজ থাকে না? মন ভালো করা ফুরফুরে দখিনা বাতাস, তাতে বকুল-জুঁই-টগরের মিষ্টি গন্ধ মেশানো। দুপুরে সজনেফুলের বড়া, থোরের তরকারি, কলাইয়ের ডাল দিয়ে গরম ভাত। ঘটরঘটর ফ্যানের আওয়াজের সাথে গায়ে পাতলা চাদর জড়িয়ে নরম বালিশ-পাশবালিশের সাথে সুখনিদ্রায় ডুব। বাইরে দুপুর রোদ চুপচাপ। কাঠবিড়ালিগুলো পাতায় ডালে খরমর খরমর শব্দ তুলে লাফিয়ে বেড়াতে … পড়তে থাকুন বসন্তের ডায়েরি

ভিটে, মাটি

আমার বাংলা বসন্তকালে পলাশ হয়ে ফোটে, আমার বাংলা একতারাতে বাউল গানে ছোটে। আমার বাংলা হিমঝরা রাতে ঝিঁঝি পোকার ডাকে, আমার বাংলা লেপ-কম্বলে স্বপ্ন আবেশ চাখে আমার বাংলায় দখিন হাওয়ায় নিমপাতা ঝরে পড়ে, আমার বাংলা কাজলদিঘির রুই-কাতলা ধরে। আমার বাংলা শ্লেট পেন্সিলে ভাষার প্রলেপ মাখে, আমার বাংলা তুলি ক্যানভাসে রং হয়ে ছবি আঁকে আমার বাংলা নীল … পড়তে থাকুন ভিটে, মাটি

ছিন্নমূলের ডানা

ইঁটকাঠের ইমারতের ভিড়ে দম আটকে আসে একরত্তি মেয়েটার। কতই বা বয়স হবে আর, বারো-তেরো? পড়াশোনা করার জন্যে তাকে আসতে হয়েছে এখানে। সে শুধু জানে, পড়াশোনা করতে হবে তাকে। অনেক পড়াশোনা।বড় হয়ে উঠতে হবে। কিছু একটা করবে সে, যাতে তার মায়ের দুঃখ ঘুচে যায়। তাদের বাড়িটা যেখানে ছিল, সেখানে এরকম দম আটকানো ধোঁয়া থাকত না। জানলাটা … পড়তে থাকুন ছিন্নমূলের ডানা

এভাবেও ভালবাসা যায়

চৈত্রমাসের শেষ দিকের দুপুরে শ্রাবণী সেনের গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার মধ্যে একটা বেশ আলাদা আমেজ আছে। অন্তত তেমনটাই মনে হয় নীপার। নিঃঝুম দুপুরে দূর থেকে ভেসে আসা কুহু কুহু ডাকে, ঘড়ঘড় করে ঘুরতে থাকা ফ্যানের ব্লেডের আওয়াজের সাথে 'এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে'- আহা! পারফেক্ট মন ভালো করা আবেশ এনে দেয় একটা। কিন্তু নীপার মন ভালো … পড়তে থাকুন এভাবেও ভালবাসা যায়